এপ্রিল ২০, ২০২৪

নাটকীয়ভাবে শেষ সময়ে সমতা ফিরিয়ে আনে নেদারল্যান্ডস, নির্ধারিত সময়ের ম্যাচটা ২-২ সমতায় শেষ হয়৷ এরপর অতিরিক্ত সময়ে কোনো গোল হয়নি, খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে৷ লাউতারো মার্তিনেজের শটটা গোলে ঢুকতেই নিশ্চিত হয়ে যায়, আর্জেন্টিনা খেলছে সেমিফাইনালে৷

৯ ডিসেম্বরের রাতটা ছিল টাইব্রেকারের৷ আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগে টাইব্রেকারেই হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল, নানান নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনাও তাদের সঙ্গী হওয়ার পথে৷ কিন্তু ফুটবল ঈশ্বর হয়তো লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপে শিরোপাটা তার জন্যই বরাদ্দ রেখেছেন৷ এত নাটকীয়তা, শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের পর আর্জেন্টিনার জয় তো সেরকমই আভাষ দেয়৷

আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছিলেন রদ্রিগো দি পল আর আনহেল দি মারিয়াকে নিয়ে অহেতুকই আশংকা করা হচ্ছে৷ একাদশ ঘোষণার সময় জানা গেল, দি পল শুরুর একাদশে থাকলেও দি মারিয়া নেই৷ স্কালোনি ছক সাজালেন ৫-৩-২ কৌশলে, রক্ষণ আরেকটু জমাট করে উইংয়ে খেলার সুযোগ করে দিলেন দুই উইংব্যাক মোলিনা আর আকুনিয়াকে৷ অন্যদিকে লুই ফন খাল কৌশল সাজিয়েছিলেন ৩-৪-১-২ ছকে৷ আগের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে ডেভি ক্লাসেন নেই, দলে নিলেন স্টিভেন বার্জউইনকে৷

তবে লিওনেল মেসির পায়ের জাদুর কাছে যেন পৃথিবীর সব কৌশলই বৃথা৷ মাঝমাঠের একটু পর থেকে, গোলপোস্টের ৪০ গজ দূর থেকে বল পায়ে মেসির সেই ক্ষিপ্র গতির দৌড়, একটা ঝটকায় নেথান আকে কে পেছনে ফেললেন তারপর ড্যানি ব্লিন্দ আর ভার্জিল ফান ডাইকের মাঝে সূঁচের মতো ফাঁকের ভেতর দিয়ে বলটা ঠেলে দিলেন ডি বক্সের ভেতর৷ যেখানে দুজনকে ছিটকে ফেলে ঢুকে পড়েছেন মোলিনা৷ রক্ষণের প্রহরীকে ছিটকে ফেলে বলটা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নোপার্টকে বোকা বানিয়ে বল পাঠিয়ে দিলেন জালে৷ আর্জেন্টিনার হয়ে মলিনার এটাই প্রথম গোল, যে গোলটা মনে করিয়ে দিল ১৯৯০’র বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যারাডোনা আর ক্যানিজিয়ার যুগলবন্দীতে হওয়া সেই গোলটাকেই৷

প্রথমার্ধে মেসি পেয়েছিলেন আরো একটা ভাল সুযোগ, ম্যাচের ৪০ মিনিটে আলভারেজের পাস থেকে গোলরক্ষকের সোজাসুজি বল পেয়েছিলেন মেসি৷ কিন্তু ডানপায়ে নেয়া মেসির শটটা সোজাসুজি চলে যায় নোপার্টের হাতে৷ ডাচরা মূলত সুযোগ সৃষ্টি করেছে সেট পিসে৷ কিন্তু কোডি গাকপোকে কোনো ক্রসেই মাথা ছোঁয়াতে দেয়নি আর্জেন্টিনার রক্ষণ৷

ম্যাকঅ্যালিস্টারের ব্রেক থেকে একসঙ্গে আক্রমণে উঠেছিলেন মেসি, দি পল আর আলভারেজ৷ দি পল এগিয়েও গিয়েছিলেন, কিন্তু সময়মতো ধরতে পারেননি ম্যাকঅ্যালিস্টারের পাঠানো বলটা৷ হলে হয়তো আরেকটা গোল পেতেই পারত আর্জেন্টিনা৷ মিনিট খানেক পর মেসিকে ডি-বক্সের ঠিক সামনে ফাউল করেন ফান ডাইক৷ মেসির নেয়া ফ্রি কিকটা অল্পের জন্য গোলপোস্ট মিস করে গিয়ে লাগে সাইডনেটে৷

৬৫মিনিটের মাথায় দি পলকে তুলে পারেদেসকে নামান স্কালোনি, তারপর দলকে নিয়ে আসেন লো-ব্লক ডিফেন্সে৷ নেদারল্যান্ডস বারবার চেষ্টা করছিল ডান প্রান্ত দিয়ে ফ্রেঙ্কি দি ইয়ংয়ের গতিটা কাজে লাগিয়ে আক্রমণে উঠে আসার৷ কিন্তু আটজনকে রক্ষণে এনে কড়া পাহারাই বসিয়েছেন স্কালোনি, দি ইয়ংয়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না এই কড়া পাহাড়া গলিয়ে মেমফিস ডেপাই কিংবা কোডি গাকপোর কাছে বল পাঠানো৷

খানিকটা সময় রক্ষণে নিজেদের ভেতরেই বলের দখল রাখার পর আক্রমণে আর্জেন্টিনা৷ বামদিক থেকে বক্সের ভেতর ঢুক্তে চেষ্টা করা আকুনাকে ফাউল করলেন ডামফ্রিস, সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সংকেত রেফারির৷ পোল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করতে না পারলেও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে একই ভুল করলেন না মেসি৷ বাম পায়ে ডানদিকে জোরাল শটে নোপার্টকে একদমই সুযোগ দেননি মেসি৷ এই গোলে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৭০ ম্যাচে ৯৫ গোল হয়ে গেল মেসির আর বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা হয়েছে ১০৷ আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এতদিন ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোল করে ‘বাতিগোল’কে ছুঁয়ে ফেললেন মেসি৷

ওদিকে লুই ফন খাল মাঠ থেকে ড্যানি ব্লিন্দকে তুলে নিয়ে লুক দে ইয়ংকে নামিয়েছেন, মেমফিস দেলেও কেও তুলে নিয়ে নামান ভ্যাখহর্স্টকে৷ ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই স্ট্রাইকারকে নামানোয় কাজ হয়েছে, গাকপোর ক্রসের রিবাউন্ডে ১২ গজ দূর থেকে লাফিয়ে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন ভ্যাখহর্স্ট৷ তার গোলের দেড় মিনিট পরেই ব্যার্কহয়সের শট লাগে জালের বাইরের দিকে৷ শেষ সময়ে মরিয়া হয়ে ওঠা ডাচদের সঙ্গে মাঠে লড়াই বেঁধে যায় আর্জেন্টাইনদের৷ পারেদেস ফাউল করেন আকেকে, এসময় বলটা তিনি লাথি মেরে মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে পাঠিয়ে দেন ডাচ ডাগআউটে৷ সঙ্গে সঙ্গে মাঠের ভেতরে চলে আসেন সাইডবেঞ্চের খেলোয়াড়রা৷ হাতাহাতি, কথা কাটাকাটির পর পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি৷ সেই ফাউলের ফ্রি-কিকে একটা সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস, কিন্তু ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি কেউই৷

১০ মিনিট ইনজুরি সময় যোগ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের সঙ্গে, যে সময়টা শেষ চেষ্টা হিসেবে আক্রমণ চালিয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস৷ মূলত সেটপিসে আর লম্বা ক্রসেই গোল বের করার চেষ্টা ছিল তাদের৷ শেষ সময়ে সফল হল তাদের কৌশল৷ পেজেল্লা বক্সের বাইরে শুধু শুধু ধাক্কা দিলেন ভ্যাখহর্স্টকে৷ রেফারি দিলেন ফ্রি কিকের সংকেত, তর্ক করতে এসে হলুদ কার্ড দেখেন মেসি৷

সেই ফ্রি-কিকেই গোলের বন্ধ দরজা খুলল নেদারল্যান্ডস৷ কুপমেইনার্স উড়িয়ে শট না নিয়ে গড়িয়ে দিলেন ভ্যাখহর্স্টকে, বল পেয়েই এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে বোকা বানিয়ে বল জালে ঠেলে দিলেন৷ ১০১ তম মিনিটে গোল খেল আর্জেন্টিনা, কিক-অফের পরই রেফারির বাঁশিতে খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে৷

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লুই ফন খালই ছিলেন ডাচদের কোচ৷ ম্যাচটা টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল আর জিতেছিল আর্জেন্টিনা৷ এবারও তার একই কৌশল৷ রক্ষণে সবাইকে নামিয়ে এনেছিলেন কোচ৷ সেই সুযোগে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে অনেকগুলো আক্রমণ করেছে আর্জেন্টিনা, একটার পর একটা কর্নার আদায় করেছে৷ লাউতারো মার্তিনেজের শট গোলরক্ষক ফিরিয়েছেন, এনজো ফার্নান্দেজের শট পোস্টে লেগে ফিরে এসেছে, মেসির শট গেছে পোস্টের পাশ দিয়ে৷ গোলের অনেক সম্ভাবনা জাগিয়েও গোল আর করতে পারেনি আর্জেন্টিনা৷ বরং স্নায়ুর চাপে দুই দলের খেলোয়াড়রাই বারবার মেজাজ হারিয়েছেন, ফলে রেফারিকে বার বার দেখাতে হয়েছে কার্ড৷ গোটা ম্যাচে মোট ১৪ জনকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন স্প্যানিশ রেফারি আন্তোনিও লাহোজ৷

পেনাল্টি শুট আউটে ফান ডাইকের নেয়া প্রথম শটটাই ঠেকিয়ে দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ৷ অন্যদিকে মেসি প্রথম স্পটকিক নিতে এসে করলেন গোল৷ দুই অধিনায়কের মতোই হলো দুই দলের ভাগ্য৷ ডাচদের পরের শট ব্যার্কহয়সের, মার্তিনেজ ঠেকিয়ে দিলেন সেই শটও৷ প্রথম দুই শটে আর্জেন্টিনার দুই গোল, ডাচদের কোন গোল নেই৷ দলের চতুর্থ শটে এনজো ফার্নান্দেজ মারলেন পোস্টের বাইরে৷ শেষ শটটা নিতে এলেন লাউতারো মার্তিনেস, এবারে মিস হলে সাডেন ডেথ৷ মাঠের খেলায় অনেকগুলো সুযোগ মিস করলেও লাউতারো এবারে আর মিস করেননি৷ দারুণ শটে গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করলেন এই ফরোয়ার্ড৷

মেসি এবং দুই মার্তিনেজ, তাদের পায়ে এবং হাতে ভর করেই সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা৷ বিশ্বকাপ শিরোপা থেমে মেসি আর মাত্র দুই ম্যাচ দূরে৷ অন্যদিকে ডাচদের কষ্টটা বাড়ল, শেষ সময়ে গোল করে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচের আয়ু বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত বাড়ির পথই যে ধরতে হচ্ছে তাদের৷ আর আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার লড়াইতে মুখোমুখি হবে ব্রাজিলকে হারিয়ে আসা ক্রোয়েশিয়ার৷

অপরদিকে নির্ধারিত সময়ে গোল না আসায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে৷ সেখানে দারুণ গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন দলের সেরা তারকা নেইমার৷ খেলার একদম শেষ দিকে সেই গোল ফিরিয়ে দেন ব্রুনো পেটকোভিচ৷

টাইব্রেকারে যাওয়া ম্যাচে ব্রাজিলের দুটি শট ফিরিয়ে নায়ক পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ৷ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে থামাতে হয় যাত্রা, টানা দ্বিতীয়বারের মতো শেষ চারের ঠিকানা খোঁজে উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া৷

শুক্রবার কাতারের আল রাইয়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে গত আসরের ফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়া৷ নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধে দুই দলই পেয়েছিল গোল৷ সমতা ভাঙতে হওয়া পেনাল্টি শ্যুটআউটে স্নায়ু আর ধরে রাখতে পারল না হট ফেভারিট ব্রাজিল৷

টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার চার শটের সবগুলোই জড়ায় জালে৷ ব্রাজিলের প্রথম শট মিস করেন রদ্রিগো, চতুর্থ শট মিস করে বসেন মার্কিনিউস৷ নেইমারের অপেক্ষায় ছিলেন শেষ শটের, কিন্তু সেই সুযোগ আর আসেনি তার৷ হতাশায় নুয়ে পড়েন এই ম্যাচে গোল করে পেলের পাসে নাম লেখানো ব্রাজিলিয়ান তারকা৷

২০০২ বিশ্বকাপের পর থেকেই নকআউট পর্বে বারবারই ব্রাজিলের বাধা হয়েছে ইউরোপের দলগুলো৷ ২০০৬ সালে ফ্রান্স, ২০১০ সালে নেদারল্যান্ডস ও ২০১৮ সালে বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে দৌড় থামাতে হয়েছিল ব্রাজিলকে৷ ২০১৪ সালে নিজ দেশে সেমিফাইনালে ব্রাজিলের যন্ত্রণার কারণ হয় জার্মানি৷ ইউরোপীয় দল হওয়ায় ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও তাই গত কয়েক বছরের ইউরোপীয় বাধায় অস্বস্তি সঙ্গী ছিল সেলেসাওদের৷ এবারও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের যাত্রা থামাল একটি ইউরোপীয় দলই৷

পুরো ম্যাচে ৪১ শতাংশ বল দখলে নিয়ে গোলের উদ্দেশ্যে মোট ১৯টি শট নেয় ব্রাজিল, যার ১১টি ছিল অন টার্গেট৷ অপরদিকে ৪৪ শতাংশ বল দখলে রাকলেও ৯ শট মেরে কেবল একটি অন টার্গেট রাখতে পেরেছিল ক্রোয়েশিয়া৷ সেই একটা শটেই যে এসেছে গোল৷

বল দখলে নিয়ে শুরুতেই আক্রমণের চেষ্টা চালায় ব্রাজিল৷ পঞ্চম মিনিটে বা দিকে ভিনিসিউস জুনিয়রের নেওয়া দুর্বল শট ধরতে কোনো সমস্যা হয়নি ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচের৷ মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছিল ব্রাজিলের৷ সুযোগ নিয়ে চেপে বসার চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া৷

১৩ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে তাদের সামনে৷ ডান প্রান্ত দিয়ে ছুটে গিয়ে ক্রস দিয়েছিলেন মারিও পাসালিচ৷ বক্সের ভেতর এদার মিলিতাওর বাধায় পা লাগাতে পারেননি ইভান পেরিসিচ৷ ১৫ মিনিটে বক্সের খানিক সামনে থেকে বল হারিয়ে লুকা মডরিচের পায়ে তুলে দিয়েছিলেন কাসেমিরো৷ আতঙ্ক ছড়িয়ে মদ্রিচ ব্রাজিলের সীমানায় ছুটে গিয়ে যে শট মারেন তা বাধা পায় মিলিতাওর হেডে৷

২০ মিনিটে রিচার্লিসনের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়া করে বক্সে ঢুকে গিয়েছিলেন ভিনিসিউস৷ সৃষ্টিশীল আক্রমণ থেকে রিচার্লিসনের মারা শট আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জোস্কো ভার্ডিওল৷ খানিক পর রিচার্লিসনের দুর্বল শট ধরে নেন ক্রোয়েট কিপার৷

৩০ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে বল নিয়ে ছুটে পেরিসিচের নেওয়া শট যায় বারের উপর দিয়ে৷ প্রথম আধঘন্টায় প্রতি আক্রমণে দুরন্ত গতি দিয়ে ব্রাজিলকে চাপে রাখে ক্রোয়েশিয়া৷

বিরতির খানিক আগে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের৷ ৪২ মিনিটে নেইমারের মারা ফ্রি কিক ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচের ধরতে কোন সমস্যাই হয়নি৷ অস্বস্তি আর দুশ্চিন্তা আক্রান্ত হয়ে প্রধামার্থ শেষ করে তিতের দল৷

বিরতির পর নেমে ৪৭ মিনিটেই গোল পেতে পারত ব্রাজিল৷ ডান প্রান্ত থেকে মিলিতাওর বাড়ানো বল যায় বক্সের মধ্যে৷ জটলা থেকে নেইমারের মারা শট শরীর পেতে ব্লক করে দেন ভার্ডিওল৷ ৫৩ মিনিটে পেরিসিচের মারা বল থেকে মাথা লাগাতে পারেননি ক্রামারিচ৷ ৫৫ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে বা দিকে ছুটে গিয়ে নেইমারের বল দেন রিচার্লিসনকে৷ রিচার্লিসনের বাড়ানো পাস ধরে নেইমারের আড়াআড়ি মারা শট ঠেকিয়ে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক৷ ৫৬ মিনিটে রাফিনহাকে তুলে অ্যান্তনিকে নামাম তিতে৷

গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ৬৪ মিনিটে ভিনিসিউসিকে তুলে নিয়ে তার রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ রদ্রিগোকে নামায় ব্রাজিল৷ ৬৬ মিনিটে আরেকটি অসাধারণ সুযোগ হারায় ব্রাজিল৷ ক্রোয়েশিয়ার বক্সে ডিফেন্স ভেঙে ঢুকে পড়া লুকাস পাকেতার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক লিভাকোভিচ৷ ৭২ মিনিটে পাসালিচের বদলে ভালিসিচ ও ক্রামারিচের বদলে পেটকোভিচের নামান ক্রোয়েশিয়ার কোচ জাৎকো দালিচ৷

৭৬ মিনিটে ব্রাজিলকে আবার হতাশ করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক৷ রিচার্লিসনের বাড়ানো বল নিয়ে বা দিক থেকে বল নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন নেইমার৷ ব্রাজিলের সেরা তারকার নেওয়া শট আবারও ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ৷

৮০ মিনিটে আবারও সুযোগ হাতছাড়া হয় লাতিন জায়ান্টদের৷ মিলিতাওর কাছ থেকে ক্রস পেয়ে রদ্রিগো বাড়ান পাকেতাকে৷ বক্সের বাইরে থেকে তার বা পায়ের শট আটকে যায় ক্রোয়েট কিপারের গ্লাভসে৷

৮৪ মিনিটে টুর্নামেন্টে তিন গোল করা রিচার্লিসনকেও তুলে নেন ব্রাজিলের কোচ৷ তার বদলে মাঠে আসেন পেদ্রো৷ শেষ দিকে প্রবল চাপ বাড়ায় ব্রাজিল৷ কিন্তু কোনভাবেই ক্রোয়েশিয়ার গোলমুখ খুলতে পারছিল না তারা৷ গোলরক্ষকের নৈপুণ্যে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে৷

অতিরিক্ত সময়ের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ব্রাজিল৷ সেসবের সবগুলোই খেই হারাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে৷ অতিরিক্ত সময়ের নবম মিনিটে নেইমারের ডান পায়ের বাড়ানো বল নাগালে পাননি ব্রাজিলের কোন খেলোয়াড়৷

১০৩ মিনিটে গোল হজম করে ফেলেছিল ব্রাজিল৷ রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গিয়েছিলেন পেটকোভিচ৷ একদজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ব্রোজোভিচকে দিলেও তিনি বল মারেন অনেক উপরে৷

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের একদম শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলকে আনন্দে ভাসান নেইমার৷ বক্সের বারে থেকে দারুণ মুন্সিয়ানায় পাকেতাকে বল দিয়েই ঢুকে পড়েন নেইমার৷ বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকে কাটিয়ে দারুণ শটে বল জড়িয়ে দেন জালে৷ এই গোল দিয়ে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে গোল করায় কিংবদন্তি পেলের পাশে বসেন তিনি৷ দুজনেরই গোল এখন ৭৭৷ কে জানত এই মাইলফলক উদযাপনের সুযোগ পরে আর হবে না তার!

শেষ ১৫ মিনিটে মিলিতাওর বদলে আলেক্স সান্দ্রো ও পাকেতার জায়গায় ফ্রেদকে নামান তিতে৷ এবার গোল শোধে মরিয়ে হয়ে উঠে ক্রোয়েশিয়া৷ ১১৭ মিনিটে আসে সফলতা৷ প্রতি আক্রমণ থেকে দারুণ গতিতে বল নিয়ে ছুটে যায় তারা৷ ব্রাজিলের রক্ষণ তখন অনেকটাই অরক্ষিত৷ বদলি নামা মিসলাভ ওরসিচ নিজেদের রক্ষণ থেকে বল কেড়ে ব্রাজিলের রক্ষণে ছুটে গিয়ে পাস দেন পেটকোভিচকে৷ তার শট অ্যান্তিনিওর পায়ে লেগে দিক বদল হয়ে ঢুকে যায় জালে৷ সমতার উল্লাসে মাতে ক্রোয়েটরা৷

খেলার একদম শেষ সময়েও বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক৷ ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে৷ সেখানেও নায়ক বনেন লিভাকোভিচ৷

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *