এপ্রিল ১৪, ২০২৪

কাতারে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে দুই সপ্তাহ সময়ও বাকি নেই। তার আগে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করেছেন ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেপ ব্ল্যাটার। তার মতে, কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়াটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় ২০১০ সালে। এরপর থেকেই ফিফা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে ঘিরে এসেছে দুর্নীতির নানা অভিযোগ। কাতার বিশ্বকাপ আয়োজক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্মাণশ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে বিশ্বজুড়ে নানা মানবাধিকার সংঘটনগুলো।

কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বেছে নেয়ার কমিটি ও তৎকালীন ফিফা সভাপতি ছিলেন ব্ল্যাটার। ওই সিদ্ধান্তের এক যুগ পর ৮৬ বছর বয়সী এ সুইস সংগঠক স্বীকার করেছেন যে ফিফার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম টাগেস-আন্টসাইগারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কাতার দেশ হিসেবে একেবারে ছোট। ফুটবল ও বিশ্বকাপ দেশটির তুলনায় অনেক বড় বিষয়। এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। সে সময় ফিফা সভাপতি হিসেবে আমিই এর জন্য দায়ী।’

বিশ্বকাপের জন্য বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১০ সাল থেকে দোহা ও এর আশপাশের শহরগুলোর চেহারা পাল্টে ফেলা হয়েছে। দোহাসহ দেশের মোট ৮টি স্টেডিয়ামে ৩২টি দল ৬৪টি ম্যাচ খেলবে।

২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে মূলত এগিয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিফা সদস্য হিসেবে ব্ল্যাটারের ভোটও গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। তবে চূড়ান্ত ৫ প্রার্থীর প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে পরাজিত হয়।

ফরাসি ও ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমগুলো বারবার দাবি করেছে এসেছে যে, ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর ফিফা নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত ভোটের আগের সপ্তাহে প্যারিসের তৎকালীন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ও তৎকালীন ইউয়েফা প্রেসিডেন্ট ও ফিফা ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনির সঙ্গে ফিফা নির্বাহী কমিটির যে বৈঠক হয় সেখানে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়।

সারকোজির সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

ব্ল্যাটার মঙ্গলবার তার দেয়া সাক্ষাৎকারে ওই বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, প্লাতিনি তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দিতে।

১৪-৮ ভোটে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের দায়িত্ব পায়। এই ২২ ভোটের ৪টি ছিল ইউয়েফা অর্থাৎ প্লাতিনির হাতে।

ব্ল্যাটার বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ২০১৮ বিশ্বকাপ রাশিয়া ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হবে। দুই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার একটা প্রচেষ্টা ছিল সেটি। প্লাতিনি ও ইউয়েফার ওই ৪ ভোটের কারণেই বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে না হয়ে কাতারে হচ্ছে। এটাই সত্য।’

এসব অভিযোগ প্লাতিনি বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন। এর আগে ২০১৫ সালে বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্লাতিনি বলেন যে সারকোজি কখনই তাকে চাপ দেননি। তিনি জানতেন কোন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ভালো হবে।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *