এপ্রিল ২২, ২০২৪

বিজ রিপোর্ট

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বাজারে চালু থাকা ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগে এখন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (২৪ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

তবে এ নির্দেশনা শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য নয় বলে জানানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকলে পাসপোর্টের নম্বরকে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে এনআইডি বাধ্যতামূলক নয়।

প্রবাসীদের জন্য ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড এবং ইউএস ডলার বন্ড এ তিন ধরনের সঞ্চয় বন্ড রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে এ তিনটি বন্ডের লেনদেন অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে ওইসময় এসব বন্ডে বিনিয়োগ করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বাধ্যতামূলক করা হয়।

ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে প্রবাসীরা নিজ নামের পাশাপাশি দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের নামেও বিনিয়োগ করতে পারেন। আর বাকি দুটোতে প্রবাসীরা শুধু নিজ নামে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে পারেন। এসব বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস এবং বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা, এক্সচেঞ্জ হাউস, এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংক শাখা থেকে বেচাকেনা হয়ে আসছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডের মুনাফার হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দুটি বন্ডেই চার স্তরের মুনাফা কমিয়ে স্তর করা হয় তিনটি।

আগে বন্ড দুটিতে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার সমমূল্যের ডলার বিনিয়োগ করা গেলেও পরে সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডে আগের মতোই ৫ বছর শেষে মুনাফার হার ১২ শতাংশ রাখা হয়।

ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে মুনাফা ৪ দশমিক ৫ শতাংশ । দ্বিতীয় বছর শেষে ৫ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ১ লাখ ১ থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ করে প্রথম বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৪ শতাংশ ও তৃতীয় বছর শেষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

আর ৫ লাখ ১ ডলার থেকে তার বেশি অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৩ শতাংশ ও ৩ বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

এদিকে ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৪ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ আর তৃতীয় বছর শেষে ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ১ লাখ ১ থেকে ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ৩ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ও মেয়াদান্তে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

৫ লাখ ১ থেকে তার বেশি ডলারের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রথম বছর শেষে ২ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৩ বছর শেষে ৩ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়।

শেয়ার দিয়ে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *